Anubrata Mondal : হাজিরার দিন অনুব্রত মন্ডলের বদলে হাজির ৭ আইনজীবী! ভাইরাল অডিয়োর পরও নিজে এলেন না ‘কেষ্ট’

সাম্প্রতিককালে রাজ্য রাজনীতির চেনা নাম অনুব্রত মণ্ডল আবারও শিরোনামে। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ভাইরাল হওয়া একটি অডিয়ো ক্লিপ ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহল—প্রতিটি মহলেই চলছে চর্চা। নেতার কণ্ঠে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কটূক্তি ও হুমকির অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। এ রাজ্যে যেখানে পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা বিতর্ক লেগেই থাকে, সেখানে একজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে ওঠা এমন অভিযোগ নিঃসন্দেহে নজরকাড়া।

রাজনীতি হোক বা সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া—আইনের চোখে সবাই সমান। কিন্তু রাজনৈতিক নেতা হলে কি সেই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটানো যায়? এমন প্রশ্ন উঠে আসছে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। শনিবার সকাল ১১টার মধ্যে বোলপুরের এসডিপিও অফিসে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল অনুব্রত মণ্ডলের। সাধারণ মানুষ সকাল থেকে অপেক্ষায় থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অনুব্রতের দেখা মেলেনি। হঠাৎই তার বদলে হাজির হন সাত জন আইনজীবী। স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয় নতুন করে জল্পনা।

অনুব্রতের আইনজীবীদের এক জন জানান, তাঁরা এসেছেন ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ করতে। যদিও সূত্র বলছে, অনুব্রতের অসুস্থতার কারণ দেখিয়েই তাঁর পক্ষ থেকে তাঁরা হাজিরা দিতে গিয়েছেন। কিন্তু এই ব্যাখ্যাও একরকম ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। প্রশাসনের একাংশের দাবি, আগেই নোটিস পাঠিয়ে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবু কেন নিজে এলেন না তিনি? কেবল অসুস্থতা নাকি এর আড়ালে রয়েছে অন্য কোনও কৌশল?

তৃণমূলের অন্দরমহল সূত্রে জানা যাচ্ছে, ভাইরাল অডিয়ো নিয়ে দলের তরফ থেকে অনুব্রতকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয়। সেই অনুযায়ী প্রথমে একটি চিঠি, তারপর আরও একটি সংক্ষিপ্ত চিঠি পুলিশের কাছে পাঠান তিনি। এমনকি ভিডিওবার্তায় ক্ষমাও চেয়েছেন। প্রথমে যদিও অডিয়োর কণ্ঠস্বর অস্বীকার করেছিলেন তিনি, পরে তা স্বীকার করে নেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কথায় বয়ান বদল করে ফের চিঠি পাঠান—এমনটাই দাবি সূত্রের।

আরও পড়ুনঃ Shocking Murder : সাত সকালে হাতে কাটা মু*ণ্ডু, হাঁটছেন যুবক! চারপাশে স্তব্ধতা, চোখ কপালে স্থানীয়দের!

অবশেষে বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অনুব্রতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। ২২৪ (সরকারি কাজে বাধা), ১৩২ (সরকারি কর্মীকে হেনস্থা), ৭৫ (শ্লীলতাহানি ও হেনস্থা), ৩৫১ (হুমকি) ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তৎপর হয়ে পুলিশ শুক্রবারই তৃণমূলের পার্টি অফিসে গিয়ে অনুব্রতকে শনিবার সকালে হাজিরার নির্দেশ দেয়। কিন্তু শনিবার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ‘দোর্দণ্ডপ্রতাপ’ নেতা নিজে অনুপস্থিত থাকেন। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে, আইন কি কেবল সাধারণের জন্য? নেতারা কি এর ঊর্ধ্বে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে প্রশাসন থেকে আমজনতা—সবাই।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles